বাংলাদেশ

গতো 7 মাসে 15 হাজার নিখোঁজ শিশু: শুধু আক্ষেপ নয়, এবার চাই প্রতিরোধ ও সচেতনতা
খবরের কাগজে বা টিভির স্ক্রিনে যখন “১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ” লেখাটা ভেসে ওঠে, তখন বুকের ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে ওঠে। দিনশেষে যখন নিজের ছেলে দাউদের দিকে তাকাই, তখন অজান্তেই একটা ভয় গ্রাস করে— আমাদের সন্তানরা কি সত্যিই এই সমাজে নিরাপদ? ১৫ হাজার শুধু একটি সংখ্যা নয়, এগুলো ১৫ হাজার পরিবারের নিভে যাওয়া প্রদীপ।
দেশের এই অবস্থার জন্য কেবল প্রশ্ন তুলে বা হা-হুতাশ করে বসে থাকলে চলবে না। সংকট যখন এতটা গভীর, তখন এর সমাধানের পথও আমাদেরই খুঁজতে হবে। আসুন জেনে নিই, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় কী এবং কার কী দায়িত্ব।
সরকারের কী দায়িত্ব?
একটি রাষ্ট্রের প্রথম এবং প্রধান কাজ হলো তার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। শিশু নিখোঁজের মতো ভয়াবহ অপরাধ থামাতে রাষ্ট্রের যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া জরুরি:
দ্রুত রেসপন্স সিস্টেম (Quick Response System): উন্নত বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও ‘অ্যাম্বার অ্যালার্ট’-এর মতো কোনো সিস্টেম চালু করা প্রয়োজন। কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার সাথে সাথে যেন ওই এলাকার সবার কাছে মোবাইলে অ্যালার্ট চলে যায় এবং প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়।
কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি: শিশু পাচার বা অপহরণের সাথে জড়িত সিন্ডিকেটগুলোর শেকড় উপড়ে ফেলতে হবে। আইনের ফাঁক গলে অপরাধীরা যেন পার না পায়, সেজন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব।
প্রশাসনের জবাবদিহিতা: থানায় জিডি করার পর পুলিশ কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তার একটি নিয়মিত আপডেট পরিবারকে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
নাগরিক হিসেবে আমাদের কী দায়িত্ব?
শুধু সরকারের দিকে আঙুল তুলে বসে থাকার দিন শেষ। সমাজটা আমাদের, তাই সামাজিক দায়বদ্ধতাও আমাদেরই নিতে হবে:
সামাজিক প্রতিরোধ ও নজরদারি: আমরা কি আমাদের পাশের ফ্ল্যাটের বা পাশের বাড়ির খবর রাখি? নিজের এলাকার অপরিচিত বা সন্দেহভাজন গতিবিধির ওপর নজর রাখতে হবে। পাড়া-মহল্লায় কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
চোখ-কান খোলা রাখা: রাস্তায়, বাসস্ট্যান্ডে বা রেলস্টেশনে কোনো শিশুকে একা কাঁদতে দেখলে কিংবা কোনো প্রাপ্তবয়স্কের সাথে শিশুর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে মুখ ঘুরিয়ে চলে যাবেন না। এগিয়ে যান, প্রশ্ন করুন, প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানান।
সোশ্যাল মিডিয়ার সঠিক ব্যবহার: নিখোঁজ শিশুর খবর পেলে তা দ্রুত শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন। তবে ভুয়া খবর বা গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকুন।
কীভাবে সচেতন থাকবেন? (পারিবারিক গাইডলাইন)
নিজেদের সন্তানদের সুরক্ষিত রাখতে পরিবার থেকেই প্রথম সুরক্ষার বলয় তৈরি করতে হবে:
‘গুড টাচ’ এবং ‘ব্যাড টাচ’ শেখান: খুব ছোটবেলা থেকেই শিশুকে শেখান যে কে তাকে স্পর্শ করতে পারবে আর কে পারবে না। কেউ জোর করলে বা ভয় দেখালে যেন সে সাথে সাথে বাবা-মাকে জানায়, সেই সাহসটুকু তাকে দিন।
জরুরি তথ্য মুখস্থ করানো: শিশুর বয়স একটু বাড়লেই তাকে বাবা-মায়ের ফোন নম্বর এবং বাড়ির পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা মুখস্থ করিয়ে দিন।
অপরিচিতদের ব্যাপারে সতর্ক করা: অপরিচিত কেউ চকোলেট বা খেলনা দিলে যেন না নেয় এবং তাদের সাথে কোথাও না যায়— এই শিক্ষাটি বারবার দিন।
নজরদারি বজায় রাখা: মেলা, শপিং মল বা ভিড়ের মধ্যে সন্তানের হাত শক্ত করে ধরে রাখুন। সে কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে বা অনলাইনে কী দেখছে, সেদিকে বন্ধুত্বপূর্ণ নজরদারি রাখুন।
আমাদের সন্তানরা আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের সুরক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্র, সমাজ এবং পরিবার— সবার। আসুন, শুধু আক্ষেপ না করে আমরা সবাই মিলে একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলি, যেখানে কোনো শিশুকে আর হারিয়ে যেতে হবে না।

সচেতন মূলক পোস্ট পেতে আমাদের পেইজের সাথে যুক্ত থাকুন
Continue reading
বাংলাদেশ

কফি এনিমা (Coffee Enema): এটি কি সত্যিই উপকারী, নাকি ঝুঁকির কারণ?

অনেকের কাছে সকালে এক কাপ কফি পান করার চেয়ে বেশি তৃপ্তিদায়ক আর কিছু হতে পারে না। এটি আমাদের সতেজ করে এবং দিনের শুরুতে শক্তি দেয়। কিন্তু ...
Continue reading